
আব্দুল্লাহ আল মামুন, জাপানের টোকিও থেকে: আগামীকাল রোববার অনুষ্ঠিতব্য জাপানের সাধারণ নির্বাচনে মুল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হতে যাচ্ছে শিনজো আবের নেতৃত্বাধীন দল লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি) সমর্থিত জোট ও টোকিও সিটির প্রথম নারী গভর্নর ইউরিকো কইকে নেতৃত্বাধীন নতুন দল কিবো নো তো (পার্টি অব হোপ) এর মধ্যে। তবে জাপানরে প্রথম সারির পত্রিকাগুলোর জরিপে এগিয়ে আছে শিনজো আবের দল।
তবে নতুন দল হিসেবেও ইউরিকো কইকেও অনেক দিক দিয়ে এগিয়ে আছে। কারণ তিনি জাপানে অনেক কিছু পরিবর্তনের আভাস দেওয়ার পাশাপাশি কয়েকটি ছোট দল তাকে সমর্থন দিচ্ছে। এইজন্য শিনজো আবে অনেকটা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হচ্ছে।
২০১৪ সালের ডিসেম্বরে সংসদের নিম্নকক্ষের সাধারণ নির্বাচনে জয়ী হয়ে আবে দ্বিতীয় মেয়াদে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব আসেন। এবার নিজেদের জনপ্রিয়তা যাচাই করতে একবছর আগেই ক্ষমতা ছেড়ে গত ২৮ সেপ্টেম্বর নির্বাচনের ডাক দেন শিনজো আবে। এবারের নির্বাচনে উত্তর কোরিয়ার সামরিক হুমকি মোকাবিলা, ২০২০ সালে অনুষ্ঠেয় বিশ্ব অলিম্পিক আসর ও দ্রব্যের ট্যাক্স বৃদ্ধিসহ বেশ কিছু বিষয় চ্যালেঞ্জ হিসেবে কাজ করছে।
জাতীয় এই নির্বাচনে প্রধানত তিন জোটবদ্ধ দল প্রতিযোগিতা করছে। ক্ষমতাশীন এলডিপির শরিক হয়েছে কুমেতো, এলডিপি থেকে বের হয়ে টোকিওর প্রথম নারী গর্ভনর ইরিকো কইকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন কিবো জোটের, পাশাপাশি প্রধান বিরোধীদল ডেমোক্রেটিক পার্টির (ডিপি) নেতৃত্বাধীন জোটও লড়াইয়ে আছে।
ক্ষমতায় যেতে হলে সংসদের নিম্নকক্ষের ৪৬৫ টি আসনের মধ্যে দুই তৃতীংশ বা ২৩৩ আসন পেতে হবে। ক্ষমতাসীন এলডিপি ৩০০ টি আসন পেতে পারে বলে বার্তা সংস্থা রয়র্টাসের জরিপে বলা হয়েছে। গত ২৮ সেপ্টেম্বর থেকে ১২ অক্টোবর পর্যন্ত জরিপে অংশ নেয়া ভোটারদের ৯৪ শতাংশ বিশ্বাস করেন তৃতীয় মেয়াদেও ক্ষমতায় থাকবেন শিনজো আবে। জরিপ বলছে ২৮৯ টি আসন নিয়ে একক সংখ্যাগরিষ্ঠ দল হিসেবে এলডিপি ফের ক্ষমতায় যাচ্ছে, আর এলডিপির শরিক দল কুমেতো ৩৪ টি আসন পেতে পারে।
জাপানের রাজনৈতিক অঙ্গনের একসময়ের প্রধান বিরোধীদল ডেমোক্রেটিক পার্টি সম্প্রতি জনপ্রিয়তা কিছুটা নিন্মমূখী, ফলে নির্বাচনে এর পুরো ফায়দা তুলতে পারে এলডিপি।
এর আগে গত বছর দেশটির উচ্চকক্ষের নির্বাচনেও শিনজো আবের দল সংখ্যা গরিষ্ঠতা লাভ করেছিল। ওই সময় শিনজো আবের নেতৃত্বাধীন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি(এলডিপি) জোট উচ্চকক্ষের ২৪২ আসনের মধ্যে ১৪৪ টি আর বিরোধীরা ৭৩ টি আসন পেয়েছিল।
প্রার্থীরা গত ১২ দিন ধরে তারা রেলওয়ে স্টেশনগুলির সামনে এবং আবাসিক এলাকার মধ্য দিয়ে চলার জন্য নির্বাচনী গাড়ি থেকে রাস্তায় ভোটারদের সাথে কথা বলে। এর আগের সাধারণ নির্বাচনের ভোটারদের নূন্যতম বয়স ২০ বছর থাকলেও এই প্রথমবারের মতো সরকার ভোটারদের নূন্যতম বয়স ১৮ বছর নির্ধারণ করেছে। জাপানের বেশিরভাগ অঞ্চলে, ভোটারেরা রোববার ৭টা থেকে ৮টা পর্যন্ত ভোটদাতাদের ভোট দিতে পারেন। ভোট নেওয়া বন্ধ হওয়ার সাথে সাথে নির্বাচন কর্মকর্তারা গণনা শুরু করবে।
বিশ্লেষকেরা বলছে, মাঝখানে আবের সমর্থন কিছুটা নিন্মমূখী হলেও আগাম নির্বাচন ঘোষণার ফলে জনপ্রিয়তা আবারো তুঙ্গে। সবগুলো রাজনৈতিক দলের প্রচারণা শেষে আগামীকাল ভোটের শেষে জনগণের রায়ই বলে দিবে কে আসছেন দেশ পরিচালনায়।