নিজস্ব প্রতিবেদক: মৃত গৃহবধূর ছোট ভাই রুহুল আমিন জানিয়েছেন, মানসিক ভারসাম্যহীনতার কারণেই শামীমা আক্তারকে খুন করেছে স্বামী বি এম শাহাদাত হোসেন।
শনিবার বিকেলে খুনের বিস্তারিত বর্ননা দিয়ে টেলিফোনে #japanbanglanews কে বলেন,
প্রায় ৩০ বছর ধরে বি এম শাহাদাত জাপানে অবস্থান করে আসছিলেন, পারিবারিক জীবনে তারা নি:সন্তান ছিলেন।
শামিমা আক্তারের ছোট ভাই রুহুল আমিন ৭ মার্চ রাত সাড়ে ১১ টার দিকে পুলিশকে জানায়, তার বোন হয়তো কোন বিপদে আছে তার বাসায় যেয়ে খোঁজ নেবার জন্য। পুলিশ নাম ঠিকানা শুনে বলেন যে টোকিও শিনাগাওয়া স্টেশনের মিতা পুলিশ স্টেশনে এই নামে একজন আছে। এরপর পুলিশ তাকে জানায় যে, তার বোন জামাই তাদের কাছে আটক আছে। পরে পুলিশের সাথে তারা শামিমা আক্তারের বাসায় যান। বাসায় যেয়ে দেখেন রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে আছে শামিমা আক্তার। মো: রুহুল আমিনের স্ত্রী মাশিয়ামা এবং পুলিশ প্রথমে ঘরে ঢোকে। খাটের পাশে তার লাশ পাওয়া যায়।
শাহাদাত তার স্ত্রীকে খুন করার কথা স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। স্বামী শাহাদাত ২০১৮ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারি ২২ তারিখ পর্যন্ত মানসিক হাসপাতালে ভর্তি ছিল। স্বামী-স্ত্রী দুজনে সম্পর্কে মামাতো ভাই বোন ছিলেন। রুহুল আমীনের সাথে কথা বলে জানা যায় তারা দু’জনেই সরকারী সাহায্যে বেকার ভাতায় চলতো ।
জানা গেছে, সাইতামা প্রিফেকচারে ৪০ বছর বয়সী শামীমা আক্তার তার নিজ ঘরে নিহত হয়েছেন। ছুরি দিয়ে তার ঘাড়ে আঘাত করে হত্যা করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এই ঘটনার সাথে জড়িত সন্দেহে ৮ মার্চ সন্ধ্যায় পুলিশ তার স্বামী শাহাদাত হোসেন (৫১)কে আটক করে, ছুরি দিয়ে স্ত্রীর ঘাড়ে আঘাত করে হত্যা করেন বলে সন্দেহ করা হচ্ছে।
পুলিশ সাংবাদিকদের বলেছে, শাহাদাত গত সোমবার তার স্ত্রীকে ধারালো ছুরি দিয়ে আঘাত করে হত্যার পর নিজে ট্রেনের নিচে পড়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করলে নিরাপত্তাকর্মীরা উদ্ধার করে তকে হাসপাতালে পাঠায়।
শামীমা আকতার (৪০) সাইতামাতে একটি অ্যাপার্টমেন্টে বাস করতেন। তার ভাই তার নিরাপত্তার ব্যাপারে উদ্বিগ্ন হয়ে পুলিশকে খতিয়ে দেখতে অনুরোধ জানালে হত্যাকান্ডের ঘটনা প্রকাশ পায়।
মার্চের ৭ তারিখ বৃহস্পতিবার আকতারের ভাই পুলিশকে জানান তিনি এই দম্পতির সাথে যোগাযোগ করে পাচ্ছেন না। পুলিশ অনুসন্ধানে নেমে জানতে পারে টোকিও’তে ট্রেনে এক ব্যক্তিকে সংজ্ঞাহীন অবস্থায় পাওয়া গেছে এবং তিনি হাসপাতালে রয়েছেন, তিনিই শাহাদাত হোসেন বলে পুলিশ নিশ্চিত হয়েছে।
৮ মার্চ শুক্রবার ভোরে পুলিশ দম্পতির বাড়িতে অভিযান চালালে আকতারের মৃতদেহ উপুড় হয়ে পড়ে থাকতে দেখে।
