Site icon দ্বিপ্রহর ডট কম

রাতভর ‘নাটক’, সকাল হতেই ‘খুঁনসুটি আর মুচকি হাসি’

রাতভর ‘নাটক’, সকাল হতেই ‘খুঁনসুটি আর মুচকি হাসি’

‘রাতভর নাটক, সকালে মুচকি হাসি’। দেখে বোঝার উপায় নেই এটা দাবি আদায়ের আন্দোলন। নেই কোনও উত্তেজনা কিংবা স্লোগান। ছাত্রলীগের পদবঞ্চিত ও কাঙ্ক্ষিত পদ না পাওয়াদের ওপর ফের হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্য চত্বরে রবিবার রাত থেকে অবস্থান নেন পদবঞ্চিত ও বিদ্রোহীদের একাংশ। অপরদিকে আন্দোলনকারীদের সংহতি জানাতে রাত থেকেই তাদের পাশে এসেছিলেন সংগঠনটির সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন। তবে সংহতির নামে নেতাকর্মীদের নিয়ে ‘খুঁনসুটি আর মুচকি হাসিতে’ মাত করতে দেখা যায় শোভনকে।

দৃশ্যপটটি এমন ছিল- আন্দোলনকারীদের একাংশ নীরবে বসে আছেন রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে, আরেক অংশ ছাত্রলীগ সভাপতির সঙ্গে খুঁনসুটিতে মেতেছেন। আর সকালে আন্দোলনকারীদের সংহতি জানাতে এসে শোভনের পাশে দাঁড়িয়ে ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানীকেও মুচকি হাসতে দেখা যায়। সব মিলে মধ্যরাত থেকে সকাল অব্দি এ যেন একদিকে হাসি আর অপরদিকে স্লেজিংয়ের মাধ্যমে দাবি আদায়ের এক অভিনব কৌশল!

রবিবার রাত আড়াইটার দিকে টিএসসিতে ছাত্রলীগের পদবঞ্চিত ও বিদ্রোহীদের ওপর ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানীর সমর্থকেরা হামলা চালায় বলে অভিযোগ উঠে। এতে গুরুতর আহত হয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন শেখ আব্দুল্লাহ।

এর পর রাতভর পদবঞ্চিত ও বিদ্রোহীরা রাজু ভাস্কর্য চত্বরে অবস্থান নিলে ভোরের দিকেও তাদের ওপর আরেক দফা হামলার ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ উঠে। উপর্যুপরি এই হামলার বিচার না হওয়া পর্যন্ত পদবঞ্চিত ও বিদ্রোহীরা অবস্থান চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।

এদিকে হামলার ব্যাপারে গণমাধ্যমে শোভন কোনও কথা না বললেও সাংবাদিকদের সঙ্গে একান্ত আলাপচারিতায় তিনি বলেন, ‘আমরা তাদের (পদবঞ্চিত ও বিদ্রোহীদের) কাছে ১২ ঘণ্টা সময় চাচ্ছি। এই সময়ের ভেতরে রাজু ভাস্কর্যে হামলাকারী এবং মধুর ক্যান্টিনে হামলার সঙ্গে জড়িতদের আমরা চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেবো। এছাড়া যাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে সেটার ডকুমেন্ট দেয়ার জন্যও আহ্বান জানাচ্ছি।’

অপরদিকে ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানীও সোমবার সকালে হামলার শিকার ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করতে আসেন। এসময় তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘ওদের সঙ্গে সংহতি জানাতে এসেছি! এছাড়া আর কি বলার আছে!’

সাংবাদিকদের সাথে অফ দ্যা রেকর্ডে রাব্বানী বলেন, ‘লিপি, ফরিদা পারভীন আমাদের সিনিয়র নেতাদের নিয়ে যেভাবে ফেসবুক পোস্ট করছে এটা সরাসরি সংগঠনের শৃঙ্খলা পরিপন্থি। তারা খুব কষ্ট পেয়েছেন। আমি লিপিকে জিজ্ঞেস করতে গেলে একটু বাড়াবাড়ি হয়ে যায়।’

তিনি আরও বলেন, ‘রাতে যা হয়েছে তার জন্য আমি ‘সরি’ বলেছি। আমার ভুল হয়েছে আমি স্বীকার করছি। যারা অন্যদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছে এখন দেখি তাদের বিরুদ্ধেও অনেক অভিযোগ।’

এদিকে সোমবার সকাল ৬টার দিকে ডাকসুর কমনরুম ও ক্যাফেটেরিয়া বিষয়ক সম্পাদক বিএম লিপি সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমার সাথে যা হয়েছে তা আমি বলতে পারব না। সবকিছু আপাকে (প্রধানমন্ত্রী) বলব। হামলার সাথে রাব্বানী জড়িত ছিলেন কিনা এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, আমি এ ব্যাপারে কিছু বলতে চাই না। তবে আমাদের সবাই লাঞ্ছিত হয়েছে। যা বলার আপার কাছে বলবো।’

দীর্ঘ সময় ধরে নেতাকর্মীদের সঙ্গে থেকে খুব ক্লান্ত হয়ে সবশেষে ‘আমি গেলাম’ বলে চলে যান রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন। রাব্বানীও দীর্ঘ সময় ধরে তাদের বোঝানোর চেষ্টা করেন। এক পর্যায়ে বিএ মলিপির মাথায় হাত দিয়ে বলেন, ‘আমার বোন নাই। তুমি আমার বোন। প্লিজ এখন ফিরে যাও।’ পরে গোলাম রাব্বানীও চলে যান।

আন্দোলনকারীদের পক্ষ থেকে কোনও ধরনের সিদ্ধান্ত না আসলেও তারা এখনও অবস্থান করছেন। আবার তাদের অনেকে কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে আলাপ আলোচনায় অংশ নেন। রাতভর মেরেছে বলে দাবি করলেও সকালে গণমাধ্যমে তেমন কিছু বলেননি আন্দোলনকারী পদবঞ্চিত ও বিদ্রোহী ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা।

ইএইচ/ এমআর

Exit mobile version