Site icon দ্বিপ্রহর ডট কম

জাপান সব সময়ই আমার হৃদয়ের কাছে: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

জাপান সব সময়ই আমার হৃদয়ের কাছে: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

বাবার কারণেই শৈশব থেকে জাপানের প্রতি টান অনুভব করেন, বাবা জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কাছ থেকে এটা তার মধ্যে প্রবাহিত হয়েছে।১২ দিনের ত্রিদেশীয় সফর শুরুর আগে জাপানের শীর্ষ গণমাধ্যম দ্য জাপান টাইমসে ‘উন্নয়নের জন্য জাপান-বাংলাদেশের অংশীদারিত্ব’ শিরোনামে প্রকাশিত নিবন্ধে নিজের অনুভূতির কথা এভাবেই তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

তিনি লেখেন, ‘শৈশব থেকেই জাপান নিয়ে আমার মধ্যে ভালোলাগা কাজ করত। আমি জাপানি চিত্রকলা, ক্যালেন্ডার, ডাকটিকেট, পুতুল ইত্যাদি সংগ্রহ করতাম। জাপান সব সময়ই আমার হৃদয়ের কাছে।’

মঙ্গলবার জাপানের উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সকাল ৯টায় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি বিশেষ ফ্লাইটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ত্যাগ করেন তিনি। ১২ দিনের এই সফরে তিনি জাপান, সৌদি আরব, ফিনল্যান্ড এবং ভারতে অবস্থান করবেন।

তৃতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসার পর এটাই জাপানে তার প্রথম সফর। এর আগে ২০১৪ সালে তিনি জাপান সফর করেন। এবার তার সফরের আগে জাপানে নতুন সাম্রাজ্য শুরু হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী তাঁর নিবন্ধে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা এবং মানুষের উন্নততর জীবনমান নিশ্চিত করতে চলমান বৃহৎ অবকাঠাসো উন্নয়ন কর্মসূচির গুরুত্ব তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে বাংলাদেশই বিনিয়োগের সবচেয়ে উদার ও উপযোগী পরিবেশের সুযোগ দিচ্ছে। ‘পারস্পরিক আস্থা ও সহযোগিতার ভিত্তিতে বাংলাদেশ ও জাপান সব সময় ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রক্ষা করে চলেছে।’

শেখ হাসিনা তার নিবন্ধে উল্লেখ করেন যে, এখন বাংলাদেশে ২৮০ জাপানি কোম্পানি ব্যবসা করছে, যা গত দশকের চেয়ে ১০ গুণ বেশি। জাপারেন বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের জরিপ বলছে, জাপানের অনুমোদিত কোম্পানির বাংলাদেশে ব্যবসায় উন্নতি করছে।

‘উন্নয়নের জন্য জাপান-বাংলাদেশের অংশীদারিত্ব’ শিরোনামে এই নিবন্ধে তিনি ‘বাংলাদেশকে আরেকটি জাপান হিসেবে গড়তে’ জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কথা তুলে ধরেন।

জাতির জনকের কথা স্মরণ করে তার কন্যা বলেন, কৃষি যান্ত্রিকীকরণের মাধ্যমে কৃষি থেকে শিল্পায়নের পথে রূপান্তরে জাপানকে অনুসরণে তিনি আমাদের অনুপ্রেরণা যুগিয়েছেন।

জাপান এককভাবে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় দ্বিপক্ষীয় উন্নয়ন সহযোগী। ১৯৭২ সাল থেকে দেশটির কাছ থেকে বাংলাদেশ মোট এক হাজার ১৩০ কোটি ডলারের সহায়তা পেয়েছে। শেখ হাসিনার জাপান সফরের সময় ৪০তম ঋণ সহায়তার আওতায় আড়াইশ কোটি ডলারের একটি ঋণচুক্তি হবে।

২০১৬ সালের জুলাইতে গুলশানে জঙ্গি হামলায় নাগরিকের প্রাণহানির ঘটনায় জাপানের সঙ্গে বন্ধুত্ব পরীক্ষিত হয়েছে মন্তব্য করে শেখ হাসিনা বলেন, দুই দেশ সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ মোকাবেলায় একসঙ্গে কাজ করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

১৯৭২ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি, বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয়া প্রথম দেশগুলোর মধ্যে ছিল জাপান। দু’দেশের পতাকাও দেখতে অনেকটা এক রকম। ২০২২ সালে জাপানের সাথে কূটনৈতিক সম্পর্কের ৫০ বছর পূর্তি হবে।

Exit mobile version