1. mdabirhossain.6894@gmail.com : Abir Hossain : Abir Hossain
  2. info@diprohor.com : admin :
  3. bappi.kusht@gmail.com : Bappi Hossain : Bappi Hossain
  4. biplob.ice@gmail.com : Md Biplob Hossain : Md Biplob Hossain
  5. mahedi988.bd@gmail.com : Mahedi Hasan : Mahedi Hasan
  6. mamunjp007@gmail.com : mamunjp007 :
  7. media.mrp24@gmail.com : এস এইচ এম মামুন : এস এইচ এম মামুন
  8. rakib.jnu.s6@gmail.com : Rakibul Islam : Rakibul Islam
  9. mdraselali95@gmail.com : Rasel Ali : Rasel Ali
  10. rockyrisul@gmail.com : Rocky Risul : Rocky Risul
  11. rouf4711@gmail.com : আব্দুর রউফ : আব্দুর রউফ
  12. sohan.acct@gmail.com : Sohanur Rahman : Sohanur Rahman
মেজাজ হারিয়ে এসব কী করছেন মমতা? | দ্বিপ্রহর ডট কম
বুধবার, ২১ জানুয়ারী ২০২৬, ০৬:১২ অপরাহ্ন

মেজাজ হারিয়ে এসব কী করছেন মমতা?

ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট টাইম: শনিবার, ১ জুন, ২০১৯
  • ৭৬১ বার পঠিত
মেজাজ হারিয়ে এসব কী করছেন মমতা?

জয় শ্রী রাম’ ধ্বনি শুনলেই ক্ষেপে যাচ্ছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। রাজ্যে নিজেদের প্রভাব বাড়াতে তৎপর বিজেপির যদি এটাই অন্যতম রণকৌশল হয়, তাহলে তারা সফল।

রাজ্যে বিজেপির অভূতপূর্ব নির্বাচনি সাফল্যের আগেই পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীর ‘‌জয় শ্রী রাম’ ধ্বনির প্রতি এই তীব্র বিরাগ দেখা গিয়েছিল। মেদিনীপুরের ঘাটালে নির্বাচনি প্রচারে গিয়েছিলেন তিনি। রাস্তা দিয়ে তার গাড়ির কনভয় যাওয়ার সময় একদল লোক ‘‌জয় শ্রী রাম’ বলে চেঁচিয়েছিল। গাড়ি থামিয়ে নেমে এসে তেড়ে গিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। তখনকার মতো লোকগুলি পালালেও পরে বিজেপি তাদের খুঁজে বের করে এবং রীতিমতো সম্বর্ধিত করে। দুজনের মালা-পরা ছবি বিজেপির আইটি সেল ছড়িয়ে দেয় সোশাল মিডিয়ায়। সম্ভবত সেই ঘটনা থেকেই বিজেপি বুঝে নিয়েছিল, মমতা ব্যানার্জিকে উত্যক্ত করার সহজতম উপায় কী!‌

রাজ্যে দুটিমাত্র লোকসভা আসন থেকে এবার ১৮টি আসন পেয়ে যাওয়ার পর বিজেপি স্বাভাবিকভাবেই তাদের রাজনৈতিক প্রভাব-প্রতিপত্তি আরো বিস্তৃত করতে চাইছে। লোকসভা ভোটের ফল বেরোবার পর থেকেই শুরু হয়ে গেছে তৃণমূল কংগ্রেস ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পালা। ভাঙন ধরেছে তৃণমূল কংগ্রেসের দাপুটে নেতা অনুব্রত মন্ডলের খাসতালুক বীরভূম জেলায়।

সেখানে তৃণমূলের প্রাক্তন বিধায়ক গদাধর হাজরা, যুব সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মহম্মদ আসিফ ইকবাল, যিনি আবার জেলায় তৃণমূলের সংখ্যালঘু মুখও বটে এবং আরেক নেতা নিমাই দাস নিজেদের দলবল নিয়ে যোগ দিয়েছেন গেরুয়া শিবিরে। দিল্লি গিয়ে বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন বীরভূমের তৃণমূল বিধায়ক, বরাবরের সুযোগসন্ধানী মনিরুল ইসলাম।

একদা বাম বিধায়ক মনিরুল রাজ্যে বামফ্রন্ট সরকারের পতনের পর তৃণমূল কংগ্রেসের টিকিটে ভোটে জিতে নিজের বিধানসভা আসনটি ধরে রেখেছিলেন। এবার পরিস্থিতি বুঝে চলে গেলেন বিজেপিতে। আর এই দলবদলের আগের দিনই হুগলির বীজপুরের তৃণমূল বিধায়ক শুভ্রাংশু রায়, যিনি দলত্যাগী মুকুল রায়ের ছেলে, অন্তত ৫০ জন অনুগামী পৌর কাউন্সিলরকে নিয়ে যোগ দিয়েছেন বিজেপিতে, যার ফলে কমপক্ষে চারটি পুরসভা তৃণমূলের হাতছাড়া হতে চলেছে।

শুভ্রাংশু ছাড়াও আরেক তৃণমূল বিধায়ক তুষারকান্তি ভট্টাচার্য এবং সিপিএম বিধায়ক রবীন্দ্রনাথ রায় এদিন যোগ দেন বিজেপিতে। তারপর বিজেপির নেতারা খোঁচা মেরে বলেছেন, এবার যেমন সাত দফায় ভোট হলো, পশ্চিমবঙ্গেও সাত দফায় শাসকদলের অধিকাংশ নেতা-কর্মী এসে যোগ দেবেন বিজেপিতে।

এসব শুনে স্বাভাবিক কারণেই ক্ষিপ্ত মমতা ব্যানার্জি নেমে পড়েছেন হারানো রাজনৈতিক জমি পুনরুদ্ধারে। হুগলি লোকসভা কেন্দ্রে জিতে গেছেন রাজ্যে বিজেপির মহিলা মোর্চার নেত্রী লকেট চ্যাটার্জি। জেলায় তৃণমূলের আরেক দলত্যাগী নেতা অর্জুন সিং এবার বিজেপির টিকিটে ব্যারাকপুর লোকসভা কেন্দ্রে জিতেছেন। ফলে জেলার তৃণমূল কংগ্রেস কর্মীদের ওপর চাপ বাড়ছে। অনেক কর্মী ভয়ে ঘরছাড়া, অনেক জায়গায় তৃণমূলের পার্টি অফিস বিজেপি দখল করে নিয়েছে খবর পাওয়ার পর বৃহস্পতিবার মমতা নিজে নৈহাটি এলাকায় যাবেন বলে ঘোষণা করেন, যদিও নিরাপত্তার কারণে গোপন রাখা হয়েছিল মুখ্যমন্ত্রীর কনভয়ের যাত্রাপথ।

কিন্তু শেষ পর্যন্ত অর্জুন সিংয়ের বাড়ির সামনের রাস্তা দিয়েই যেতে হয় মুখ্যমন্ত্রীকে। যাওয়ার পথে জগদ্দল এবং নৈহাটির মাঝে তিন জায়গায় চটকলের গেটে দাঁড়ানো বিজেপির পতাকা নিয়ে দাঁড়ানো শ্রমিকরা মুখ্যমন্ত্রীর গাড়ি দেখেই ‘‌জয় শ্রী রাম’ স্লোগান দিতে থাকে। ধৈর্য হারান মমতা। ভাটপাড়ার রিলায়েন্স জুট মিলের সামনে তিনি নেমে আসেন গাড়ি থেকে এবং তেড়ে যান। রীতিমতো গালিগালাজ করেন বিজেপি কর্মীদের, যারা নাকি তার কনভয়ের রাস্তা আটকানোর চেষ্টা করেছিল বলে অভিযোগ। এরপর আরো দু’‌বার একই ঘটনা ঘটে। টিভি চ্যানেলের দৌলতে এ ঘটনার ভিডিও প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই ছড়িয়ে পড়ে সংবাদ মাধ্যমে এবং সোশাল মিডিয়ায়।

ফলে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী বিরোধী রাজনৈতিক দলের সমর্থক চটকল-কর্মীদের ঠিক কী বলেছেন, গোপন রাখা যায়নি। এক জায়গায় তিনি বলে বসেন, ‘‘‌আমাদেরই খাবে, আমাদেরই পরবে (‌আর বিজেপিকে সমর্থন করবে)‌!‌’’ বলেছেন, ‘‘‌এরা কেউ বাঙালি নয়। সব বাইরের লোক।’’ বলেছেন, ‘‘‌সব বন্ধ করে দেবো। একদিনে সব গুটিয়ে চলে যেতে হবে৷’’ অর্থাৎ চটকল বন্ধ করে দেওয়ার কথা বলেছেন মুখ্যমন্ত্রী, যে রাজ্যে ৩৪ বছরের বামফ্রন্ট সরকারের মহাপতনের অন্যতম কারণ ছিল বন্ধ কল-কারখানা, যে রাজ্যে এখনো বলার মতো কোনো বড় শিল্প হয়নি, বিনিয়োগ আসেনি। বাঙালি-অবাঙালি, স্থানীয়-বহিরাগতর বিভাজনও করেছেন মুখ্যমন্ত্রী, যে অভিযোগ তিনি বিজেপির বিরুদ্ধে হামেশাই করে থাকেন।

ফলে সাধারণ মানুষ, মুখ্যমন্ত্রীর এই উত্তেজিত প্রতিক্রিয়াকে ভালোভাবে নেয়নি। প্রশ্ন উঠে গেছে, যিনি আসামে নাগরিক সংশোধন তালিকা, অর্থাৎ, বিতর্কিত এনআরসির কট্টর বিরোধী, তিনি কী করে বলেন, বহিরাগত অবাঙালিদের রাজ্য থেকে বের করে দেওয়ার কথা!‌

বস্তুত বিজেপি এখন চাইছে মুখ্যমন্ত্রীকে লাগাতার উত্যক্ত করে উত্তেজিত করতে, যাতে তিনি এ ধরনের মন্তব্য করে বসেন, যা তার বিরুদ্ধেই কাজে লাগানো যায়। মমতার মন্ত্রীরাও যে সবসময় ঠিক কথা বলছেন, তা নয়। গত দু’‌দিনে তৃণমূল বিধায়ক, কাউন্সিলরদের দলত্যাগ প্রসঙ্গে মমতার অতি বিশ্বস্ত, রাজ্যের মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম টিভি ক্যামেরার সামনে দাঁড়িয়ে বলেছেন, ‘‘জাহাজ যখন ঝড়ের মুখে পড়ে টলমল করে, সবার আগে পালায় ইঁদুর। কিন্তু তারা বোঝে না যে, তারা জাহাজ থেকে সমুদ্রে ঝাঁপ দিচ্ছে।’’

যদিও চিরকালীন প্রবাদবাক্যটি একটু বদলে নিয়ে বলেছেন ফিরহাদ হাকিম, কিন্তু আসল কথাটা সবারই মনে পড়ে গেছে। জাহাজ যখন ডোবে, সবার আগে টের পেয়ে পালায় ইঁদুরেরা। দলত্যাগী নেতাদের তুচ্ছ করার জন্য তিনি ইঁদুর বলতেই পারেন, কিন্তু জাহাজ যে ডুবছে, প্রকারান্তরে সেটা স্বীকার করে নেওয়ার মধ্যেই বা কী বিচক্ষণতা, বা তৃণমূল কংগ্রেস কর্মীরা কথাটা শুনে আদৌ কতটা পুনরুজ্জীবিত হবে, সেটা লোকে বুঝতে পারছে না। বিশেষত যখন হাওয়ায় কান পাতলেই শোনা যাচ্ছে, তৃণমূলের অনেক নেতা-কর্মী বিজেপিতে যাওয়ার জন্যে পা বাড়িয়েই আছেন!

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

এ জাতীয় আরো খবর..
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত দ্বিপ্রহর ডট কম-২০১৭-২০২০
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com
themebazardiprohor11