দিল্লি সব সময় বলে এসেছে, পশ্চিমবঙ্গ সরকারের আপত্তিতেই মূলত তিস্তা চুক্তি আটকে আছে। এবার নরেন্দ্র মোদী তার প্রথম দফার চেয়ে বড় ম্যান্ডেট নিয়ে ক্ষমতায় আসতে যাচ্ছেন, এবং পশ্চিমবঙ্গেও তার দল সাফল্যের দেখা পেয়েছে। তাহলে কি তিস্তা নিয়ে এবার আশাবাদী হতে পারে বাংলাদেশ?
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক লাইলুফার ইয়াসমিন সতর্ক করে দিয়ে বলছেন, এখনি সে আশা করা হলে ভুল হবে।Quote Message: মনে রাখতে হবে তিস্তা ইস্যু ভারতের জন্য একটা দরকষাকষির বিষয়। ফলে খুব শীঘ্রই এটা সমাধান হয়ে যাবে সে আশা করা ভুল হবে। এই তিস্তার পানি বন্টন নিয়ে ভারতের অভ্যন্তরীণ রাজনীতির আরেকটা রূপ দেখা যাবে কয়েক মাসের মধ্যেই। তখন বোঝা যাবে এজন্য মমতা ব্যানার্জীর আপত্তিই একমাত্র কারণ কিনা। from অধ্যাপক লাইলুফার ইয়াসমিন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
মনে রাখতে হবে তিস্তা ইস্যু ভারতের জন্য একটা দরকষাকষির বিষয়। ফলে খুব শীঘ্রই এটা সমাধান হয়ে যাবে সে আশা করা ভুল হবে। এই তিস্তার পানি বন্টন নিয়ে ভারতের অভ্যন্তরীণ রাজনীতির আরেকটা রূপ দেখা যাবে কয়েক মাসের মধ্যেই। তখন বোঝা যাবে এজন্য মমতা ব্যানার্জীর আপত্তিই একমাত্র কারণ কিনা।অধ্যাপক লাইলুফার ইয়াসমিনআন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

দিল্লিতে কংগ্রেস পার্টির সদর দপ্তর থেকে বিবিসি হিন্দির জুবায়ের আহমেদ জানাচ্ছেন দলের কর্মী ও মুখপাত্ররা ফলাফলে স্তম্ভিত। তারা “জবাব দেবার ভাষা হারিয়ে ফেলেছেন,” জানাচ্ছেন জুবায়ের। ফলাফলের এই প্রাথমিক ট্রেণ্ডের কারণ তারা ব্যাখ্যা করতে পারছেন না। কংগ্রেস “বিস্ময়করভাবে জিতে যাবে” এমনটা তারা নিশ্চিতভাবে আশা করেননি, তবে তারা এর থেকে অনেক ভাল ফল আশা করেছিলেন। একজন মুখপাত্র দুপুরের পর ট্রেণ্ড দেখে পরাজয় মেনে নেন। যদিও আনুষ্ঠানিকভাবে তিনি বলেছেন প্রাথমিক ট্রেণ্ড সন্ধ্যার দিকে উল্টে যেতে পারে- এমন সম্ভাবনা উড়িয়ে দেয়া যায় না। জুবায়ের আহমেদ জানাচ্ছেন সন্ধ্যায় দল একটা সংবাদ সম্মেলন করার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে তাকে জানানো হয়েছে। দলের ঊর্ধ্বতন নেতারা হয়ত ওই সম্মেলন থেকে পরাজয় মেনে নেবার ঘোষণা দিতে পারেন। তবে দলের সভাপতি রাহুল গান্ধী ওই সংবাদ সম্মেলনে হাজির থাকবেন কিনা সেকথা কেউ বলতে পারেনি।
রাজধানী দিল্লিতে কংগ্রেস পার্টির সদর দপ্তরে পড়ে রইল খালি মাঠ। ফলাফলের ‘আর্লি ট্রেণ্ডে’ নরেন্দ্র মোদীর দল কংগ্রেসকে পেছনে ফেলে দেয়ায় ক্যামেরা ও অন্যান্য আয়োজন আর কাজে লাগল না।
রাজধানী দিল্লিতে কংগ্রেস পার্টির সদর দপ্তরে পড়ে রইল খালি মাঠ। ফলাফলের ‘আর্লি ট্রেণ্ডে’ নরেন্দ্র মোদীর দল কংগ্রেসকে পেছনে ফেলে দেয়ায় ক্যামেরা ও অন্যান্য আয়োজন আর কাজে লাগল না।

বিজেপি পুনরায় সরকার গঠন করলে দুই দেশের মধ্যে যেসব দ্বিপাক্ষিক বিষয়ে সহযোগিতা চলমান আছে, তার ধারাবাহিকতা চলতে থাকবে বলে মনে করেন বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রদূত হুমায়ুন কবির।Quote Message: বাংলাদেশের কাছে এখন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হবে অর্থনৈতিক বিষয়গুলো, যেমন বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং অর্থনৈতিক যোগাযোগ বাড়ানোর বিষয়গুলো। ভারতের নতুন সরকার সে জায়গায় কাজ করবে – সে আশা করা যায় এখন। from হুমায়ুন কবির সাবেক রাষ্ট্রদূত, বাংলাদেশ
বাংলাদেশের কাছে এখন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হবে অর্থনৈতিক বিষয়গুলো, যেমন বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং অর্থনৈতিক যোগাযোগ বাড়ানোর বিষয়গুলো। ভারতের নতুন সরকার সে জায়গায় কাজ করবে – সে আশা করা যায় এখন।হুমায়ুন কবিরসাবেক রাষ্ট্রদূত, বাংলাদেশ
নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার সময় কলকাতায় বিভিন্ন দলের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে বিভিন্ন প্রতিক্রিয়া উঠে এসেছে বিবিসির অমিতাভ ভট্টশালীর ক্যামেরায়।
নির্বাচনের ফল গণনায় নিরঙ্কুশ বিজয়ের দ্বারপ্রান্তে নরেন্দ্র মোদীর বিজেপি।
ইতোমধ্যেই মমতা ব্যানার্জি সহ বিরোধী অনেকেই পরাজয় মেনে নিয়ে অভিনন্দন জানিয়েছেন নরেন্দ্র মোদীকে।
ফল গণনা শুরুর পর কোনো টুইট করেননি মোদী।
অবশেষে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত হওয়ার পর টুইট করলেন তিনি।
টুইট বার্তায় তিনি লিখেছেন: একসাথেই এগিয়ে যাবো। একসাথেই উন্নতি করবো। একসাথেই শক্তিশালী ভারত গড়বো।
উত্তর প্রদেশে জয়ের দিকেই এগিয়ে যাচ্ছেন অখিলেশ যাদব ও তার বাবা মুলায়েম সিং যাদব।
তাদের দুটি আসনই সমাজবাদী পার্টির শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত।
এবার নির্বাচনের আগে বিজেপির বিরুদ্ধে তাদের গত প্রায় দু দশকের প্রতিপক্ষ মায়াবতীর সাথেই জোট গড়েছিলেন তারা।
অখিলেশ ও মায়াবতী একজোট হয়ে সভা সমাবেশও করেছেন অনেক।
কিন্তু তাদের জোট কার্যত মোদীর কোনো ক্ষতি করতে পারেনি।
উত্তর প্রদেশে বিজেপি ও সমমনারা এগিয়ে আছে ৫৮ আসনে।

তৃণমূল নেত্রী ও পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি এক টুইট বার্তায় বিজয়ীদের অভিনন্দন জানিয়েছেন।
তবে তিনি এটাও বলেছেন ফলাফল সম্পূর্ণ পর্যালোচনা করে এই নিয়ে তাঁর মতামত জানাবেন তিনি।
টুইট বার্তায় তিনি লিখেছেন, “বিজয়ীদের অভিনন্দন। কিন্তু পরাজিতরা সব হারায়নি। আমাদের সবকিছু পর্যালোচনা করতে হবে এবং এরপর সবার সাথে আমাদের মতামত শেয়ার করবো। এখন গণনা পর্ব পুরোপুরি শেষ হোক ..”।
বিবিসি বাংলার দিল্লি সংবাদদাতা শুভজ্যোতি ঘোষ জানাচ্ছেন, ভারতের সাধারণ নির্বাচনে ‘বেলওয়েদার স্টেট’ হিসেবে যার পরিচিতি, সেই উত্তরপ্রদেশে বিজেপি যে বেশ কিছু আসন হারাতে পারে প্রায় সব রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকই কিন্তু সেই পূর্বাভাস করেছিলেন।
সারা দেশে সর্বোচ্চ, ৮০টি লোকসভা আসন আছে ওই রাজ্যেই – আর ২০১৪ সালে তার মধ্যে ৭৩টিই গিয়েছিল বিজেপির দখলে।
হিন্দি বলয়ের আরও তিন রাজ্য – মধ্যপ্রদেশ, রাজস্থান ও ছত্তিশগড়ের ৬৫টি আসনের মধ্যেও ৬২টি পেয়েছিল বিজেপি। ওই তিন রাজ্যেও এবারে সেই ফলের ধারা ধরে রেখেছে তারা।

কিন্তু উত্তরপ্রদেশে বিজেপির যতটা বিপর্যয় হবে বলে ধারণা করা হয়েছিল দেখা যাচ্ছে শেষ পর্যন্ত ততটা মোটেই হয়নি – বেলা দেড়টা নাগাদ তারা এগিয়ে আছে সে রাজ্যের ৫৯টি আসনে।
অর্থাৎ গত বারের তুলনায় তারা সেখানে ১৪টির মতো আসন হারাতে চলেছে।
কিন্তু বিজেপির এই সামান্য ক্ষতি পুষিয়ে দিচ্ছে পূর্ব ভারত – বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গ ও ওড়িশার মতো রাজ্যদুটি।

পশ্চিমবঙ্গে গতবারের জেতা মাত্র দুটি আসন থেকে একলাফে নয় গুণ শক্তিবৃদ্ধি করে তারা প্রায় আঠারোটি আসন জেতার পথে এগোচ্ছে।
ওড়িশাতেও যেখানে তারা গতবার মাত্র একটি আসনে জিতেছিল, সেই জায়গায় এবার তারা সাতটি আসনে এগিয়ে আছে।
ফলে উত্তরপ্রদেশে যে ১৪টির মতো আসন বিজেপি খোয়াতে পারে, তার দেড়গুণ বেশি নতুন আসন তারা জিতে নিচ্ছে পূর্ব ভারতের দুটো রাজ্য থেকেই।
বিজেপির স্ট্র্যাটেজিস্টরা নিজেদের শক্তিবৃদ্ধির জন্য দীর্ঘদিন ধরেই পাখির চোখ করে রেখেছিলেন পূর্ব ভারতকে, তা এতদিনে তাদের সুফল দিতে শুরু করেছে।
মুম্বাই স্টক এক্সচেঞ্জের সামনে থেকে এ ছবিটি তোলা হয়েছে। বিজেপি আমার ক্ষমতায় আসছে এই খবরে ভারতের শেয়ারবাজারে রেকর্ড উত্থান দেখা গেছে।

লোকসভা নির্বাচনের এখন পর্যন্ত পাওয়া ফল ইঙ্গিত করছে যে একটি বিশাল জয়ের দিকেই এগিয়ে যাচ্ছে নরেন্দ্র মোদীর বিজেপি।
এখন পর্যন্ত যা ফল এসেছে তাতে বিজেপি জোট ৩৪৫ টি আসনে জয়লাভ করেছে।
এর মধ্যে বিজেপি একাই ২৮০টির বেশি আসন পেয়েছে।
দিল্লিতে বিজেপি সদরদপ্তরে এখন চলছে উৎসবের প্রস্তুতি।
কর্মী সমর্থকরা জড়ো হয়ে উৎসবমূখর পরিবেশ তৈরি করেছে সেখানে।

বিজেপি বিপুল ব্যবধানে এগিয়ে থাকায় ভারতের জনগণকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিং। নরেন্দ্র মোদীকে শুভেচ্ছাও জানিয়েছেন তিনি।
বিজেপির সমর্থকদের বিজয়ের স্লোগান, খুশী নন কংগ্রেস সমর্থকরা

বুথফেরত জরিপকেও পেছনে ফেললো বিজেপি

বিজেপি নেতৃত্বাধীন জোট পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য বিহারে ৪০টির মধ্যে ৩৮টি আসনেই এগিয়ে আছে।
এবারের নির্বাচনে রাজ্যে মুখ্যমন্ত্রী নীতিশ কুমারের জনতা দল ও লোক জনশক্তি পার্টির সাথে জোট বেধেঁছিলো নরেন্দ্র মোদীর বিজেপি।
এবার ২০১৪ সালের নির্বাচনের চেয়েও বিহারে ভালো ফল করেছে এই জোট।
আগের নির্বাচনে বিজেপি ২৯টি আসন পেয়েছিলো এ রাজ্যে।
ওদিকে কংগ্রেস ও রাষ্ট্রীয় জনতা দলের জোট শোচনীয় পরাজয়ের সামনে।

দিল্লি থেকে বিবিসি বাংলার শুভজ্যোতি ঘোষ জানাচ্ছেন, সারা দেশে বিজেপির আরও একবার বিপুল জয়ের ছবি যখন ক্রমেই স্পষ্ট হচ্ছে –তখনই প্রিয়াঙ্কা গান্ধীকে দেখা গেল নিজে ড্রাইভ করে বড় ভাই রাহুলের বাড়িতে যাচ্ছেন।
বেলা বারোটা নাগাদ প্রিয়াঙ্কা নিজেই ল্যুটিয়েন্স দিল্লির রাজপথ দিয়ে গাড়ি চালিয়ে ১২ নম্বর তুঘলক লেনে কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধীর বাংলোতে হাজির হন।
অবশ্যই সঙ্গে ছিলেন তার দেহরক্ষী ও এসপিজি কমান্ডোরাও।
ততক্ষণে স্পষ্ট ইঙ্গিত চলে এসেছে, মাত্র চার-পাঁচমাস আগেও কংগ্রেস বিজেপিকে হারিয়ে যে রাজ্যগুলো দখল করেছিল –সেই মধ্যপ্রদেশ বা রাজস্থানেও দলের বিপর্যয় অবধারিত।
গতবারের পাওয়া মাত্র ৪৪টি আসনের তুলনায় কংগ্রেস এবার বেশ কিছুটা ভাল করছে ঠিকই –কিন্তু সেটা যে বিজেপিকে হঠানোর ধারেকাছেও নয় সেটাও পরিষ্কার হয়ে গেছে।
এই পটভূমিতেই রাহুল গান্ধীর বাড়িতে গেলেন বোন প্রিয়াঙ্কা –ধরে নেওয়া যেতে পারে দুজনেই তারপর শুরু করে দিলেন নির্বাচনী ফলাফলের পোস্ট মর্টেম।

ভারতীয় স্টাইলে নাম নেহেরু জ্যাকেট- যেটা বিখ্যাত করেছিলেন ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী কংগ্রেসের জওহরলাল নেহেরু। এখন সেই জ্যাকেটের রকমফের- পরিচিতি পেয়েছে ‘মোদী জ্যাকেট” নামে।

‘সানি লিওন … না না, সরি, সানি দেওল এগিয়ে আছেন গুরদাসপুরে’

ভারতে ভোটের ফল গণনার দিনে চরম উৎকণ্ঠা আর টানটান উত্তেজনার মধ্যেই হঠাৎ ট্রেন্ড করতে শুরু করেছেন সাবেক পর্নো তারকা ও বলিউড অভিনেত্রী সানি লিওন।
না, সানি লিওন নিজে এদিন কিছু করেননি –তাকে হঠাৎ করে চর্চায় নিয়ে এসেছেন ভারতে রিপাবলিক টিভির জনপ্রিয় ও বিতর্কিত অ্যাঙ্কর অর্ণব গোস্বামী।
লাইভ টেলিভিশনে ভোটের ফল গণনার খবর বলতে গিয়ে তিনি এদিন বলে বসেন, “ওদিকে পাঞ্জাবের গুরদাসপুর আসনে এগিয়ে আছেন সানি লিওন –না, না, সরি –সানি দেওল!”
বিজেপির হয়ে গুরদাসপুর থেকে এবার লড়ছেন বলিউড তারকা সানি দেওল। ২০১৪তেও এই আসনটি থেকে জিতেছিলেন আর এক বলিউড অভিনেতা, প্রয়াত বিনোদ খান্না।
কিন্তু অর্ণব গোস্বামীর মুখ ফসকে বলে-ফেলা একটি ভুল বাক্যের জেরে এখন সানি দেওলের চেয়েও হঠাৎ বেশি আলোচনা সানি লিওনকে ঘিরে।
এমনিতেই ভারতে সবেচেয়ে বেশি গুগল সার্চ করা চরিত্রগুলোর অন্যতম সানি লিওন –কিন্তু আজ ভোট গণনার মতো রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ দিনেও তাকে মানুষ সার্চ করতে শুরু করেছেন!
