1. mdabirhossain.6894@gmail.com : Abir Hossain : Abir Hossain
  2. info@diprohor.com : admin :
  3. bappi.kusht@gmail.com : Bappi Hossain : Bappi Hossain
  4. biplob.ice@gmail.com : Md Biplob Hossain : Md Biplob Hossain
  5. enamulkhanbd@yahoo.com : Enamul Khan : Enamul Khan
  6. mahedi988.bd@gmail.com : Mahedi Hasan : Mahedi Hasan
  7. mamunjp007@gmail.com : mamunjp007 :
  8. media.mrp24@gmail.com : এস এইচ এম মামুন : এস এইচ এম মামুন
  9. rakib.jnu.s6@gmail.com : Rakibul Islam : Rakibul Islam
  10. mdraselali95@gmail.com : Rasel Ali : Rasel Ali
  11. rockyrisul@gmail.com : Rocky Risul : Rocky Risul
  12. rouf4711@gmail.com : আব্দুর রউফ : আব্দুর রউফ
  13. sohan.acct@gmail.com : Sohanur Rahman : Sohanur Rahman
নুহাশ পল্লীতে একদিন (পর্ব-২৫): পি. আর. প্লাসিড | দ্বিপ্রহর ডট কম
মঙ্গলবার, ০৯ অগাস্ট ২০২২, ০৬:৫১ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
হঠাৎ অসুস্থতায় জরুরি চিকিৎসাঃ (এগার) – কুকুরে কামড়ালে করণীয় হঠাৎ অসুস্থতায় জরুরি চিকিৎসাঃ (দশ) – প্রাথমিক স্বাস্থ্য সেবা সম্পর্কিত কিছু তথ্য হঠাৎ অসুস্থতায় জরুরি চিকিৎসাঃ (নয়) – পুড়ে যাওয়া (Burn) হঠাৎ অসুস্থতায় জরুরি চিকিৎসাঃ (আট) – তাৎক্ষণিক স্বাস্থ্য সেবা বা প্রাথমিক স্বাস্থ্য প্রতিবিধানের মূলনীতি হঠাৎ অসুস্থতায় জরুরি চিকিৎসাঃ সাত – তাৎক্ষণিক চিকিৎসা বলতে কি বোঝায় হঠাৎ অসুস্থতায় জরুরি চিকিৎসাঃ ছয় – তাৎক্ষণিক স্বাস্থ্য সেবা বা প্রাথমিক স্বাস্থ্য প্রতিবিধানের প্রাধিকার হঠাৎ অসুস্থতায় জরুরি চিকিৎসাঃ পাঁচ – গলায় দড়ি (Hanging) হঠাৎ অসুস্থতায় জরুরি চিকিৎসাঃ চার – বিষক্রিয়া (Poisoing) হঠাৎ অসুস্থতায় জরুরি চিকিৎসাঃ তিন – সর্প দংশন হঠাৎ অসুস্থতায় জরুরি চিকিৎসাঃ দুই – পানিতে ডোবা

নুহাশ পল্লীতে একদিন (পর্ব-২৫): পি. আর. প্লাসিড

পি. আর. প্ল্যাসিড
  • আপডেট টাইম: শুক্রবার, ১০ এপ্রিল, ২০২০
  • ২৯৮ বার পঠিত

গাড়ি হাজি ক্যাম্পের সামনে দিয়ে রেল ক্রসিং পার হয়। এরপর এয়ার পোর্টের সামনে দিয়ে যাবার সময় মারীয়ার বাবা ইমরানের সাথে এখানে তার দেখা হবার কথা মনে করিয়ে দিয়ে তার কাজ গুলো পরবর্তীতে কি হতে পারে সে নিয়ে আলোচনা শুরু করেছেন। তাদের দুজনের আলাপে মার্টিন যোগ হয়। মার্টিন কথা কম বললেও বেশ গুছিয়ে যুক্তি দিয়ে কথা বলে।


মারীয়ার মা মার্টিনকে তাদের বাসায় দেখেছে ঠিক কিন্তু কোন কথাই বলেন নি। আজ গাড়িতে তাকে কথা বলতে শুনে অনেকটা অবাকই হয়েছেন। কথা গুলো বেশ মন দিয়ে শোনার চেষ্টা করেন। ইমরান কথা বলে বেশী, মার্টিন তেমনটা নয়। তার প্রতিটি কথা যে কাউকে আকৃষ্ট করার মত। টঙ্গী তুরাগ নদীর উপর যে ব্রীজ সেটি অতিক্রম করার সময় হঠাৎ করেই এই নদীর ইতিহাস বলতে গিয়ে পূর্ব আলোচনার বিষয় বদলে ফেলেন।
মার্টিনের বাড়ি এই তুরাগ নদীর আশে পাশে হওয়াতে সে এই নদী সম্পর্কে ভালো ইতিহাস বলতে পারছে। মারীয়ার বাবা এই নদীর অতীত বর্তমান নিয়ে কথা বলার পর মার্টিন তার মুখ থেকে কথা টেনে নিয়ে মুক্তিযুদ্ধ চলা কালে এর আশে পাশর এলাকায় ঘটে যাওয়া অনেক ঘটনার কথা বলে। মারীয়ার মা মার্টিনের মুখে স্বাধীনতা যুদ্ধের ইতিহাস শুনে তার ভক্ত হয়ে উঠেন যেন।


মার্টিন বলে, – আমার বাবা, চাচা অনেকেই যুদ্ধে অংশ নিয়ে এই এলাকা পাকসেনাদের অত্যাচার থেকে মুক্ত রাখার চেষ্টা করেছে। কাছেই খ্রিস্টান প্রধান এলাকা। তার বাবা কাকাদের কারণে এই এলাকায় কখনও ওরা স্থায়ী ঘাটি করতে পারে নি।


ইমরানের মা বললেন, – মার্টিনের কিন্তু বেশ আউট নলেজ আছে। ওকে দেখে তেমন মনে হয় না। ও বাসায় আসলে আমি তো ওর সাথে বসে ঘন্টার পর ঘন্টা বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথা বলি। আমার ওকে বেশ ভাল লাগে। ইমরানের হাতে গোনা দু তিনজন বন্ধুর মধ্যে ওকেই বেশী বাসায় আসার একসেস আমি দিয়েছি। যখন তখন ও বাসায় আসে। আমি কখনও ইমরানকে ওর সাথে চলতে মানা করি না। এমনকি ওর সাথে বাইরে গেলে অনেকটাই নিশ্চিন্তে থাকতে পারি। ইমরানের বাবাও ওকে খুব পছন্দ করেন।


মারীয়ার মা মার্টিনকে এবার প্রশ্ন করেন, – তোমরা কভাই বোন? বাবা কি করেন? মা কোন চাকরী করেন? নাকী হাউজ ওয়াইফ। মার্টিন সব প্রশ্নের উত্তর দেয়। এর মধ্যে গাজিপুরের দিকে গাড়ি কিছুটা গতি বাড়ায়। ডান বামে বিভিন্ন মিল কারখানা এবং বিশ্ববিদ্যালয়, এগুলো দেখিয়ে গাইড এর মত ব্যাখ্যা করে নাহিয়ান আর মারীয়াকে বোঝানোর চেষ্টা করে ইমরান। মারীয়া ডান বাম দুদিকে যা আছে দেখার চেষ্টা করলেও ইমরানের সাথে কথা বাড়ায় না।


একসময় তাদের গাড়ি এসে পৌঁছায় গাজীপুর চৌরাস্তায়। এখানে এসে মার্টিন চালককে অনুরোধ করে বলেন গাড়ি থামাতে। গাড়ি থামালে সে গাড়ি থেকে নেমে মারীয়ার মামী আনিকাকে নাম ধরে ডেকে গাড়ি থেকে নামতে বলে। কোন পূর্ব পরিকল্পনা ছাড়া এখানে গাড়ি থামিয়ে নামতে বলাতে সবাই অবাক হয়ে জানতে চান, – কি ব্যাপার এখানে নামবে কেন? কেউকেউ ভেবেছিল এখানেই বুঝি নুহাশ পল্লী। তাই মুখে অবাক হবার চিহ্ন টেনে মারীয়া প্রশ্ন করে, – আমরা কি চলে এসেছি?


মার্টিন উত্তর দেয়, – না এখনও দেরী আছে। এখানে তোমাদের একটা জিনিষ দেখানোর জন্য নামতে বলছি। ফেরার সময় এই সুযোগ নাও পেতে পারি তাই।
মার্টিন যেভাবে বলছে এতে কেউ আপত্তি না করে গাড়ি থেকে নেমে রাস্তার ধারে দাঁড়িয়ে রিলাক্স করে। রাস্তার ধারে অনেক দোকান পাট। দোকান পাটের দিকে ওরা তাকিয়ে দেখছিল। রাস্তার মোড়ে বিশাল বড় এক মুক্তিযোদ্ধার মুর্তি। এটাকে দেখিয়ে মারীয়ার ছোট ভাই জানতে চায়, এটা কিসের মূর্তি। মার্টিন তাদের সবাইকে উদ্দেশ্য করে বলে, – এখানে প্রথম পাকিস্তানীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ হয়। সেই যুদ্ধে যারা শহীদ হয়েছেন তাদের স্বরণে এখানে এই মুর্তি নির্মান করা হয়েছে। তোমরা চাইলে সবাই মিলে এখানে এই মূর্তি সহ ছবি তুলতে পারো। এটাও কিন্তু একসময় তোমাদের জন্য স্মৃতি হয়ে থাকবে।
এখান থেকে আরেকটু সামনে গেলে ভাওয়াল রাজার বাড়ি। এই এলাকাটি একসময় হিন্দু প্রধান এলাকা ছিল এবং ভাওয়াল রাজার আধিপত্য ছিল। যদিও সেই সবের কিছুই নেই এখন আর। তবে চাইলে তোমরা সেই বাড়িটি দেখে যেতে পার। আগে এই এলাকার নাম ছিল জয়দেবপুর। এখন এটি গাজীপুর নামেই পরিচিত।


মারীয়ার বাবার দিকে এগিয়ে গিয়ে বলে. – আংকেল, নুহাশ পল্লীতে গেলে তো ভিতরে ঘুরে দেখতে খুব বেশী সময় লাগবে না। আমরা এখানে একটা কাজ করতে পারি। গাড়ি যেহেতু আছে, সামনে রাজবাড়িটা ওদের ঘুরিয়ে দেখাতে পারি। এখানকার ঐতিহাসিক স্থান যেহেতু এটা ওদের কাজে লাগতে পারে।দেখ, তোমাদের যা ভালো মনে হয় তাই করো। আমার তো আপত্তি নেই। আমি তোমাদের সাথে সঙ্গ দেবো শুধু। আনিকা তাদের আলাপ শুনে মারীয়াকে বলে, – এই চল যাই। ভাওয়াল রাজার বাড়ি কিন্তু দেখার মত। বিটিভিতে আমি অনেক আগে এই ভাওয়াল রাজার উপর একটা সিরিয়েল দেখেছি। খুব ইন্টারেস্টিং একটা ঘটনা আছে এই রাজাকে নিয়ে। বলেই মার্টিনকে বলে, – চলেন যাই। আমার দেখার ইচ্ছে আছে। যা হোক আজকে আপনাদের সাথে আসাতে আমার কাজ হয়েছে। এসব ঐতিহাসিক জায়গা গুলো দেখার ইচ্ছে থাকলেও কখনও সুযোগ হয়ে উঠে নি। আর আমাদের ইনারা তো এসব সম্পর্কে কোন ধারনা তো দূরের কথা আগ্রহই নেই।
ওরা তো এসব ইতিহাস কখনও পড়েও না, জানবে কোথেকে। আমি বিটিভিতে সিরিয়েল দেখার পর ভাওয়াল রাজার উপর লেখা বই পড়েছি। না পড়লে অবশ্য এসব জানা হতো না।
রাস্তার এক পাশে দাঁড়িয়ে সবাই ছবি তুললেও মারীয়া ছবি তোলায় আগ্রহ না দেখানোয় তাকে বাদ দিয়েই ছবি তোলে সবাই। মারিয়ার এমন অনিহা তার মা দেখে এর কারণ খোঁজার চেষ্টা করেন। ইমরানের মা মারীয়ার বাবাকে নিয়ে এবার কথা বলায় ব্যস্ত। মারীয়ার মামী মারীয়াকে কি যেন বোঝাচ্ছিল। এসময় মারীয়ার মা মার্টিনকে কাছে টেনে তার সাথে ছবি তোলে। তাদর ছবি তুলে দেয় ইমরান।


এরপর রাস্তার ধারে একটা চায়ের দোকানের সামনে দাঁড়িয়ে সবাই চা খায়। চা খেয়ে গাড়ি নিয়ে রওনা হয় রাজবাড়ির দিকে। সেখানে রাজবাড়ির সামনে গাড়ি পার্ক করিয়ে তারা ভিতর ঢুকে আশে পাশে চোখের দেখা দেখে। বাড়ির পশ্চিম পাশে বিশাল বড় এা পুকুর। পুকুরের পূর্ব পশ্চিম দিকে বিশাল আকারের ঘাট সিমেন্ট দিয়ে পাকা করে বাধানো। সেই পুকুরে রানী এবং তার সঙ্গীরা গোসল করতো সেই গল্পই মার্টিন করছিল। সেখানে এক ঘন্টা সময় এদিক সেদিক ঘুরে দেখার পর বাইরে গিয়ে গাড়িতে উঠে বসে। মারীয়া গাড়িতে বসে এবার ফ্রি হয়ে কথা বলতে শুরু করে। মার্টিনকে তার মায়ের সাথে ছবি তোলার সময় খেয়াল করছিল আর তাদের এত কাছাকাছি হওয়া দেখে ভিতরে কিছুটা জ্বলছিল যদিও বিষয়টি কাউকে বুঝতে না দিয়ে সে মার্টিনের সাথে কথা বলা শুরু করে। মার্টিনকে উদ্দেশ্য করে বলে, – মার্টিন ভাই, আমি আগে এই ভাওয়াল রাজার বাড়ি সম্পর্কে জানলে মনে হয় নুহাশ পল্লীতে যাবার এত আগ্রহ দেখাতাম না। পরে একদিন শুধু এই এলাকাটি ঘুরে দেখার জন্য আসবো। প্রোগ্রাম কইরেন। এই বাড়ির যে ইতিহাস বললেন, এটার সাথে নুহাশ পল্লী যায় না। কোথায় রাজ বাড়ি আর কোথায় নুহাশ পল্লী। বলেই বলে, – আবার যখন আসবো তখন শারমিনকে নিয়ে আসতে পারেন। বেশ মজা হবে।
মারীয়ার মুখে শারমিন নাম শুনে গাড়ির সামনে থেকে ইমরান ঘার ঘুরিয়ে মারীয়ার দিকে তাকায়। আনিকা প্রশ্ন করে, – শারমিন কে রে?


মারীয়া এবার ইমরানের মুখের দিকে তাকায়। দু’জনের মধ্যে চোখা চোখি হয়। মার্টিন মারীয়ার মার সাথে আরো কাছাকাছি হয়ে ঘেষে বসে মারীয়ার দিকে ঘুরে তাকায়। এতক্ষণ পর মারীয়াকে হেসে কথা বলতে দেখে মারীয়ার মায়ের মনে আনন্দ হয়।


কথা বলতে বলতে কাচা রাস্তা ধরে একদম গ্রাম্য পরিবেশের ভিতর ঢুকে যায় গাড়ি। দূরে সবুজ শাল বন। রাস্তার দু ধারে বিল। বিল ভরা পানি। লঞ্চে করে কিছু গ্রুপ এসেছে এই এলাকায় পিকনিক করতে। লঞ্চের উপর মাইকে হিন্দি গান বাজছে। চালক থেকে থেকে রাস্তার ধারে লোকদের নুহাশ পল্লীটা কোন দিকে, জিজ্ঞেস করতে করতে এগিয়ে যায়। কিছুটা সামনে যেতে দেখা যায় এই গ্রামের মধ্যে শাল বনের ভিতর বেশ কয়েকটি পাশাপাশি চায়ের দোকান এবং আশেপামে কিছু গাড়ি পার্কিং করা দেখে ধারণা করে এখানেই হবে হয়তো তাদের আকাঙ্খিত নুহাশ পল্লী। দোকানের সামনে গাড়ি থামিয়ে ইমরান জানতে চায় নুহাশ পল্লী কোথায়? তখন এক দোকানদার হাত উচিয়ে যাবার পথ দেখিয়ে বলেন, – এখান থেকে হেটে যেতে হবে। গাড়ি যাবে না। গাড়ি এখানে পার্কিংয়ে রাখতে হবে আপনাদের।


বলার পর সবাই গাড়ি থেকে নেমে দোকানদারের দেখানো পথে হাটতে থাকে। হাটতে হাটতে একসময় গিয়ে পৌছায় নুহাশ পল্লীর সামনে। বিশাল প্রাচীর দিয়ে ঘেরা নুহাশ পল্লীর সামনে সবুজ রঙ্গের বিশাল বড় লোহার গেইট। একদিকে বড় সাইন বোর্ডে লেখা রয়েছে, নুহাশ পল্লী, দর্শনার্থী প্রবেশের নিয়মাবলী আর অন্য দিকে ভিন্ন সাইন বোর্ডে লেখা রয়েছে হূমায়ুন আহমেদ এর সমাধি। মারীয়া কাছে গিয়ে সাইন বোর্ড পড়তে থাকে।

(চলবে)…….

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

এ জাতীয় আরো খবর..
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত দ্বিপ্রহর ডট কম-২০১৭-২০২০
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com
themebazardiprohor11